সোমবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৮

শুভ জন্মদিন তোমার

বাসন্তী এই সাজে,অপূর্ণ সপ্নগুলি উড়ে আকাশে,ছন্নছাড়া ভবঘুরে হয়ে।
আজি সিক্ত প্রেমে রিক্ত হয়ে বাউন্ডুলে হয় আমি।
ধু ধু মরু, বিশাল হাওর সবই আমার,
নিঃসঙ্গতা আমার নিত্য সঙ্গী,
অতন্দ্র তারকারাজি, চাদের মুখে হাসির ভঙ্গি,
বিশাল অট্টালিকায় আলোর ঝিলিমিলি,
বেলুনে বেলুনে জড়াজড়ি,ফানুসগুলি উড়বে সব রাত বারটার পর।
চকোলেট মোড়ানো কেকটা অপেক্ষায় অধীর, মোমবাতিগুলো পুড়াচ্ছে নিজ দেহ;
আর বলছে, "হে রানী, তুমি আসো, গোলাপী ঠোটের মৃদু বাতাসে নিভিয়ে দাও, আমার অগ্নি"।
কিন্তু তুমি আসলে না,
অনলে পুড়ে হৃদয় হলো ছারখার।

বিরহ যাতনায় ফুড়ালো রাত,
আধার দুরিয়া আসিল প্রভাত;
আসলে না তবু তুমি।

হে প্রিয়সী,প্রণয়-বসন্তের এই দিনে হল তোমার জন্ম,নহে আমার জন্য।
অশ্রুসজল চোখে শুধু এটুকুই বলি,
"শুভ জন্মদিন তোমার!

রবিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৮

প্রেম-মাতাল-কবি

নিশার তিমিরে ছেয়ে যাচ্ছে আকাশ,
বাতাসে গভীর রাতের গন্ধ,
চির ঘুমে আচ্ছন্ন রুপালী চাদ,
ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে দুলে পড়ে তারকাগুলি যেন।
মাতাল এই দুনিয়া, মাতাল এই নিশাচারী।
এই অক্ষির বিপরীতে দিব্যচক্ষু হয় সক্রিয়;
নয়নের সামনে ভাসছে প্রিয়সীর ছবি;
যে ছবি দেখে মাতাল হয়েছি শতবার,বারবার হয়েছি কবি।
এক এক করে কেটে গেলে চারটি বছর,
আজও অনুভূত হয় সেই রূপ,সেই সুভাস।
স্মৃতিকাতরতা নিয়ে বেঁচে আছে আজও দেহখানি,
হৃদয়ের মৃত্যু হয়েছে হাজার দিবস আগেই।
এক আধারের পর অন্য আধার নামে,
রাতের পর মধ্যরাত,মৃদু থেকে হয় গভীর,
মাতালতা বাড়ে ততই প্রখর।
অশ্রুতে ভিজে উপাধানখানি,
তবুও বাহুডোরে জড়িয়ে বলি
"ছেড়ে যেয়েও না কখনো!"
উপাধান নিরব, নির্জীব মুখ ফুটে না।
ক্ষণ পর বলি "ভালবাসি তোকে জীবনের চেয়েও বেশি, কেন দুরে চলে যাবি বল?
কোনো আওয়াজ নেই,
আমি শুনতে পাই অশ্রু বেয়ে চলার শব্দ:ছলছল।
সবাই ঘুমোই,নক্ষত্রখচিত বিশাল আকাশের নিচে যা আছে সব;
দুরের গুরে ভয়ঙ্কর সুরে শেয়ালগুলো ডাকছে ;
হয়তো ছিড়ে-ফেড়ে খাচ্ছে কোনো লাশ।
মনোহারী অট্টালিকা, আরাম শয্যা;আর নেই মনমাতানো বিলাস,
ফ্লোরের শীতলতা আমার গাঁ স্পর্শ করে,
আর একটি ছটফট অনুভবে আধারের মৃত্যু হয় ;
কোনো খেকশিয়াল কি নেই?
এই হৃদয়টাকে টেনেছিড়ে খেয়ে যা,
সহ্য করতে পারছি না এত যন্ত্রণা!

সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮

আমি কেঁদেই যাবো

আমি ততদিন কেঁদেই যাবো,
যতদিন ভালবাসা থেকে থেকে বঞ্চিত হবে হৃদয়,
এই পৃথিবীর হাজার হৃদয়ে যতদিন জন্মাবে না এক ফোঁটা প্রণয়,
আমি ততদিন কেদেই যাবো।
এই বিস্তৃত অখন্ড গগন যবে হবে না খন্ড খন্ড ;
আমি ততদিন কেঁদেই যাবো।
আমার কান্নার ইতি ঘটবে না ;
গিরি -হিমালয় যবে হবেনা উড়ন্ত ধুলি,
বেদনাময় আর্তনাদ করবে নিপীড়িত আত্মাগুলি;
আমি ততদিন কেঁদেই যাবো।
যতদিন এই বিশাল অট্টালিকা ভেঙ্গে হবে না চুরমার,
পাষণ্ড দেয়াল মানবাত্মার
হবে না কোমল,
আমি ততদিন কেঁদেই যাবো।
আমি কেঁদে যাবো অনাহারীর তরে
তার জীর্ণ-শীর্ণ চেহারা দেখে আমার অশ্রু ঝরে;
আমি শুধু কেঁদেই যাবো,
যতদিন হিমগিড়ি থেকে আসা শীতল হাওয়া লাগবে অর্ধাবৃত গায়ে,
লুটবে না ধনীর বস্ত্র অনাবৃতের পায়ে;
আমি ততদিন কেঁদেই যাবো।
আমার কান্না ততদিন হবে না শেষ,
যবে এক বিশাল চত্বরে কাধে কাধ মিলিয়ে হবে না সমাবেশ।

মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

ভালবাসার গোলাপ,গোলাপের ভালবাসা

সোনালী বিকেল, নিস্তব্ধ চারিদিক
আজ গোধুলীর পূর্বেই নির্জনতার হিরিক।
আমি একলা বসে আছি;উদাস হয়ে বসে থাকা যাকে বলে,
আমি সেই  উদাসী মনের অন্তারালে চির উদাস।
এমন সময় শুনিলাম এক নিঃশব্দ কন্ঠস্বর,"হে কবি! এমন করে দুরে দুরে কেন বসে আছো  ;
কবিরা সৌন্দর্যের পূজারী;আসো একটু কাছো আসো;
বিরহ-যাতনার গল্প করি ;"
রক্তিম আভায় প্রস্ফুটিত গোলাপটি বলিয়া উঠিল।
আমি নীরব রহিলাম।
"কেন তোমার মুখখানি আজ এমন ছন্নছাড়া;
একলা বসে ভাবিতেছো কি ডায়েরী কলম ছাড়া?
কেন আজ এলোমেলো তোমার কৃষ্ণ বাবরি চুল;
বললে না কথা একটি বারও আমি অপেক্ষায় আকূল;
কোথায় আজ আলতো পরশ, আমায় বিলিয়া দেওয়া,
কোথায় সেই প্রণয়ী বুলি হাওয়ায় উৎসর্গ করা? "
বলিলম,"প্রসন্ন সূর্যোদয়ে হবে আমার বিদায় ;
মিথ্যে এই ভালবাসা দীর্ঘ করিতে নাহি চাই"
দ্বিতীয়বার না তাকিয়ে ফিরে এলাম নিজ শয়ন কক্ষে।
ইতোমধ্যে চিনচিন ব্যথা শুরু হলো এই বক্ষে।
পরদিন প্রভাতে দেখি একি হায়!
অবুঝ সেই পূষ্পখানি এই ধরাতে নাই।
হালকা ধুলোয় পড়ে আছে তার পাপড়িগুলো;
আর একটি পত্রফলকে লেখা ছিল,"ভালবাসা ছাড়া বাচে না জীব,বাচিতে চাইনা আমি"
মস্তিষ্কের ভ্রমে ইহা আমি স্পষ্ট দেখিতে পেলাম।

শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৭

চলো রূপসী গায়েতে

তোমরা কে আছ ভাই‚ চল ঘুরতে যায় পল্লী গায়ের দেশে ।
সোনালি বিকেলে‚ পাখিরা ডানা মেলে সুর্য আলো দেয় হেসে ।
কে আছ ভাই‚ চলো হাটতে যায় দূর্বা দলানো পথে;
হেথায় সকাল বেলায়‚ তৃণলতার মেলায় শিশির ফুল যে ফুটে ।
কে যাবে ভাই‚ মোদের শ্যামলী গায় ,মন ভরবে তোমার মাসকলাই খেয়ে ।
চেয়ে দেখবে তুমি সবুজের পর সবুজ যেন দিগন্তকে আছে ছুয়ে।
যাবে কি তুমি গোধূলির বেলায়‚ গগন জুড়েছে রক্ত লালিমায়;
হটাৎ সুর্যটা নদীতে যাবে ডুবে
অবাক হয়ে যাবে তুমি‚ মিথ্যা বলছিনা আমি,
তাহলে চলো আমার সাথে;স্নেহমাখা মায়ের মতো সেই গায়েতে ।
তুমি কি যাবে দুপুরে‚ ঘোলা জলের পুকুরে সাতার কেটে মহানন্দ পাবে;
তুমিতো শহরের ছেলে‚ ছুটতে পারনি ডানা মেলে,
বাস্তবেও পাওনি এ আনন্দ‚ পাওনি কখনো খাবে(স্বপ্নে)
তবে মোর সাথে যাবে‚ যাবে রে ভাই যাবে?
তুমি কি আমার সাথে দাড়িয়ে দেখবে সন্ধ্যায় আকাশে সাদা বক উরে যায়,
মন চাইবে তোমার একটিকে ধরে রেখে দিতে।
তুমি কি দেখবে সবার মুখে হাসি ?ছেলেরা খেলছে কানামাছি;
উল্লাসে সবাই আছে যে মেতে,
তবে এ আনন্দ পেতে‚ কর্মের ছুটিতে
চল আমার সাথে রূপসী গায়েতে ॥

মুহূর্ত

আমি শুনেছি, কষ্ট করতে হবে;
অপ্রতিরোধ্য সেই বাণী
আমি তো শুনেছি,তোমার পথ তুমি দেখ;
নির্মম বিদায়ী হাতছানি।
আমি সয়েছি,খিদের জ্বালায় উপর হয়ে পড়ে থাকা
আমি তো রোখেছি বেয়ে চলা অশ্রু
চোখেতে শুকিয়ে রাখা।
আমি কাটিয়েছি হাতাশার্ত সময়,
দিনের পর রাত;
হেটেছি,ছুটেছি,ঘুরেছি, ফিরেছি
ভিজেনি কোথাও হাত।
আমি তো দেখেছি মানবের রুপ
তেলা মাথায় তেল ঢ়ালা
অর্থাভাবে সয়েছি সব মুখে যেন মোর তালা।
Like my page

রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বৈচিত্র্যময় বৃষ্টি

গগন জুড়েছে কালো মেঘে,বৃষ্টির হলো সৃষ্টি,
কারো কাছে লাগছিল তিক্ত,কারো কাছে আবার মিষ্টি,
আমার ভালো লাগছিল না, তবে লাগছিল না বেশি মন্দ,
বৃষ্টির জলে ভিজিল মোর দেহ, ভিজিল স্কন্ধ,
ছাতাহীন ছিলাম আমি মধ্যবৃত্তের ছেলে,
আছে মোর দেহে এটেল,আছে দোআশ-বেলে।
দুঃখ কষ্ট সবই মোর সহ্য করতে হয়,
কখনো জীবন পূষ্পসয্যা কখনো কন্টকময়।

একই বৃষ্টি ষোড়শী প্রিয়সীর কাছে লাগছিল খুব সুন্দর,
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, মৃদু মৃদু হাওয়া
যেন বহুকালের বহুদিনের অপ্রত্যাশিত পাওয়া।
দুতলার উপর থেকে জানালা খোলে হাতটা বাড়িয়ে দিল বৃষ্টির দিকে,
অতৃপ্ত লাগছিল তার রূপালী বৃষ্টি দেখে,
মন চাইছিল তার "বন্দি জীবন থেকে বেরিয়ে, সবজাভ মাঠটা পেরিয়ে,
যদি বৃষ্টিতে ভেজা যেত যেন সর্গ্বসূখ পেত।

সেদিনের বৃষ্টিই তরুর কষ্ট করিল সৃষ্টি,
তরু নিতান্তই গরিব,ঘরে তার ভাঙ্গা টিনের ছানি,একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পরে পানি।
সেই কষ্টে তরু ভাগ্যের করে উপহাস,
মেঝেতো আর মেঝে নয় যেন পদ্মা মেঘনা তিতাস।
ঘরের মধ্যদিয়ে পানি বহে,এ যাতনা কি প্রাণে সহে?
অর্থের অভাবে, স্বল্পতার প্রভাবে
ভাঙ্গা চালাটি আজও পাল্টানো হয় নি সম্ভব,মরিচায় ভেঙ্গে ঝুরঝুর চতুর্পাশে বেড়া সব।
যে বৃষ্টি ডেকে আনে কষ্ট, ডেকে আনে ভোগান্তি,
হৃদয়ে আনে জীবন অভিযানের শ্রান্তি,
তা কিভাবে হয় রোমাঞ্চকর,কিভাবে তা মধুময়,বরং তা যেন সবচেয়ে বেশি নির্মম, পাষন্ড,নির্দয়।
তাই বৃষ্টি তার কাছে হয়ে উঠতে পারিনি আপন
যেমন ভাবে আপন হয়নি তার প্রতিবেশিগন।
ফেইসবুকে পড়তে

নির্বিকার

ভোরের সুর্যের ফিকফিকে হাসি রোদ হয়ে আসে,আমার গায়ে লাগে দুর্বাঘাসের স্বচ্ছ মুক্তো রাশি রাশি উড়ে যায় আকাশে রোদের উত্তাপে শালিকেরা সব ছুটে...